প্রথম পর্বঃ অস্পষ্ট সবকিছু
বাহির থেকে বেশ ভালো ভাবেই দেখা যাচ্ছে সব। সচ্ছ কাচ ভেদ করে রিতুর
চেহারা আরেকবার দেখলো। রিতুর পাশে তো তার এখন থাকার কথা। অথচ সেখানে
আরেকজন লোক দাঁড়িয়ে। রিতুকে আংটি পড়িয়ে দিচ্ছে সে। রিতুর মলিন মুখটার দিকে
তাকালো সে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল রিফাত। পকেট থেকে রিভলবারটা বের
করল। কমিউনিটি সেন্টারের কাচের দরজা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঢুকল ভিতরে। গুলিটা
তাক করল রজু নামের সেই কুলাঙ্গারের দিকে। আশে পাশের যত মানুষ বসে ছিল,
থমকে গেল। পিনপতন নিরবতা। রিফাতের মুখে একরাশ ক্ষোভ। তাই সে দেখেও দেখল না
ভয়ার্ত রজুর মুখ। খেয়াল করল রিতুর হাত ফসকে গ্লাসটা পড়ে গেল। আর সাথে সাথে
ফায়ার। রজুর কপাল ভেদ করে চলে গেল গুলি।ঝাকি খেয়ে হঠাৎ ধরফরিয়ে উঠল রিফাত। ঝাকিটা দিয়েছে সিস্টার । বয়স হয়ত ৩৫ বা ৪০। মুখে এখনি বার্ধক্যের ছাপ এসে পড়েছে।
- কি ব্যাপার? ট্যাবলেট টা হাতে নিয়ে বসে আছ কেন বাপু। খেতে হবেনা? প্রতিদিনই এসব দেখাতে হবে ? কি ধ্যানে মগ্ন ছিলা আবারোও? কাকে কি জিজ্ঞেস করি।
রিফাত মুখ তুলে বলল, আমি কোথায়? আমি এখানে বসে আছি কেন? আমার গায়ে এই সাদা পোশাক কেন?
- প্রতিদিনই আমি এসব উত্তর দিতে পারব না বাপু। আগে দিসি। নিজেই বের করে নাও এখানে কেন।
- প্রতিদন মানে? কবে থেকে আমি এখানে?
- ১০ দিন হয়ে গেল। নার্স পানির গ্লাস হাতে দিতে দিতে বলতে লাগলো।
রিফাতের গলায় কথা আটকে গেল। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। সে এখানে কেমন করে
আসল? কোনো হিসাব মিলাতে পারতেছেনা, মাথা ভন ভন করতে শুরু করছে সে চেয়ার
ছেড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল। কিন্তু পায়ে তার কোনো শক্তি নাই! এটা সম্ভব না।
সে কি স্বপ্ন দেখতেছে। পরে গেল সে। অজ্ঞান হয়ে।রিফাত আবিস্কার নিজেকে স্ট্রেচারে। হাতে স্যালাইনের ইঞ্জেকশন। সে আবার কনফিউসড। তার এখানে থাকার কথা না। সে মনে করার চেষ্টা করলো তার শেষ কি মনে আছে।
রিতুর বিয়ে। রিজু নামের এক ছেলের সাথে। সেও দাওয়াত কার্ড পাইছে। রিফাত তাকাইয়া আছে বাহির থেকে ভিতরে। কাচ দিয়ে রিতুকে দেখা যাচ্ছিল। রিজু তাকে আংটি পড়িয়ে দিচ্ছে। তারপর...
তারপর কিছুই মনে নেই তার। অদ্ভুত ব্যপার। তারপর কিছু হয়েছিল? মাথায় ব্যাথা পাইছিল কোন ভাবে। কেউ হয়তো তাকে হস্পিটালে এনে রেখে যায়।
তার মাথায় ভাবনা জমতে লাগলো। রিতুর কি তাহলে বিয়ে হয়েই গেছে। হয়ত এখন হানিমুনে? হয়তো। আমার কথা কি মনে আছে তার। এক্টুকুও? অথচ পুরো ব্যাপারটাই অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল।
ভাবত ভাবতে তার খেয়াল হল, সে হাসপাতালের বেডে। কিভাবে সে এখানে এল? সে তো কিছুক্ষন আগেই রিতুর বিয়ের অনুষ্ঠানের সামনে ছিল।